“জীবনে এমন কিছুই করিনি,  যা নিয়ে গৌরব করে বলবার কিছু আছে”

“জীবনে এমন কিছুই করিনি, যা নিয়ে গৌরব করে বলবার কিছু আছে”

প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ দেশের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী। যথার্থই এক সাধক তিনি, জ্ঞানের সাধক। পেশাগত দায়িত্বপালনের বাইরে তার প্রায় পুরো সময়টাই কাটে লাইব্রেরিতে অথবা পড়ার টেবিলে, এই বাষট্টি বছর বয়সেও। দীর্ঘদেহী একহারা গড়নের শ্মাশ্রুমন্ডিত মানুষটি যখন অগোছালো পোশাকে রাস্তায় হাঁটেন বিনীত ভঙ্গীতে তখন তাকে দার্শনিকের মতই মনে হয়। কিন্তু দার্শনিক তিনি নন,…

এবনে গোলাম সামাদ ও তাঁর আদিবাসী চিন্তা – এস এম ইসলাম

এবনে গোলাম সামাদ ও তাঁর আদিবাসী চিন্তা – এস এম ইসলাম

একজন সব্যসাচী চিন্তক ও বিশ্লেষক এবনে গোলাম সামাদ। তাঁর চিন্তার পরিধি ছুঁয়ে গেছে অনেক কিছু। যার অধিকাংশই চলমান। একটু এগিয়ে বললে কথাটা এমনই দাঁড়ায়, তিনি সমকালীন বাংলাদেশের একজন বিদগ্ধ মননশীলতার প্রতিমূর্তি। নব্বইয়ের চৌকাঠে বসেও একজন তারুণ্যদ্বীপ্ত পুরুষ। তাইতো চলমান বিশ্বের প্রতিটি বিষয় ছুঁয়ে গেছে তাঁর চিন্তাকে। তিনি একাধিক বই লিখেছেন জীবাণুতত্তে¡র ওপর। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ছাত্র…

এবনে গোলাম সামাদ : শ্রদ্ধায়…- ফরহাদ মজহার

এবনে গোলাম সামাদ : শ্রদ্ধায়…- ফরহাদ মজহার

এক যতোদূর মনে পড়ে এবনে গোলাম সামাদের লেখা আমি প্রথম পড়েছি একটি সাহিত্য পত্রিকায়। সম্ভবত সিকান্দার আবু জাফরের ‘সমকাল’ হবে। খুব তরুণ বয়সের পাঠ। ষাটের দশক, নোয়াখালি ছেড়ে সবে ঢাকায় পড়তে এসেছি। এসে দেখি যাদের যাদের একটু প্রতিভাবান বলে মনে হচ্ছিল, তারা প্রায় সবাই কবিতা লেখে, অথবা লিখতে বাসনা করে। আর, তাদের দ্বিতীয় ভাব, রবীন্দ্র…

ধর্মের কথা
|

ধর্মের কথা

“আমরা বেঁচে থাকি আগে আর চিন্তা করি পরে” বলেছেন বিখ্যাত দিনেমার দার্শনিক ‘কের কাগর’ (Kier Kegaard)। ধর্ম সম্বন্ধেও কথাটা বোধ হয় অনেক পরিমাণে খাটে। ধর্মের অস্তিত্ব আগে, ধর্ম নিয়ে চিন্তা তার অনেক পরের ব্যাপার। আসলে ধর্ম সম্বন্ধে আমরা যা আলোচনা করবো তা খুবই আধুনিক চিন্তার ফল। ধর্মের বয়সের তুলনায় এই নূতন চিন্তা ধরার বয়সকে নিমেষ…

রাষ্ট্র ও সাহিত্য

রাষ্ট্র ও সাহিত্য

রাষ্ট্র ও সাহিত্য একাধিক ভাবে পরস্পরের সাথে জড়িত। সাহিত্যের বাহন ভাষা। বিভিন্ন জাতির ভাষার বিভিন্নতার অনেক গুলি করাণের অন্যতম কারণ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনৈতিক ইতিহাস। জাতীয় ভাষা মর্যাদা পায় জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। অন্যদিক আবার জাতীয় ভাষা ও সাহিত্য সহায়তা করে জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়। ইংরাজী ভাষা বিকাশের ক্ষেত্রে দেখতে পাই জাতীয় রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় ভাষার…

শিল্প-বিচার ও শিল্পবস্তু ক্রয় 

শিল্প-বিচার ও শিল্পবস্তু ক্রয় 

(লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন ‘শিল্পকলা’তে, ১৯৮৭ সালের জুন মাসে) কোন শিল্পকর্ম ভাল আর কোন শিল্পকর্ম তা নয়, তার চূড়ান্ত মানদন্ড নেই। কিন্তু তবু ভালমন্দের একটা বিচার করতে হয়। সমস্যাটা বিশেষভাবে দেখা দেয়, যখন আমরা কোন শিল্পবস্তু ক্রয় করতে চাই। আমাদের তখন স্বাভাবিক ভাবেই জানতে ইচ্ছা হয়, যা কিনছি তা…

প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ মারা গেছেন। গত রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট। তিনি ছিলেন দৈনিক ইনকিলাব পরিবারের সদস্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপকের মৃত্যুতে…

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবনে গোলাম সামাদ

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবনে গোলাম সামাদ

জ্ঞানের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক অসাধারণ গুণি ব্যক্তিত্ব প্রফেসর এবনে গোলাম সামাদ। দেশের অধিকাংশ সামাজিকমাধ্যম এবং সুধীজনের আলোচনায় তাঁর কর্মময় জীবনের ইতিকথা বারবার আলোচিত হচ্ছে। সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী জ্ঞানের এক বাতিঘর। জীবনের প্রতিটি ক্ষণে তিনি আর্দশিক সত্য উপস্থাপনে অবিচল। এমন একজন গুণিজন সম্পর্কে লিখাটা দুর্সাধ্যের ব্যাপার। তারপরও তার জ্ঞানের গভীরতাকে মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা-আবেগ এবং…

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইকবালপ্রীতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইকবালপ্রীতি

ইকবাল (১৮৭৩-১৯৩৮) আমাদের কাছে উর্দু কবি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। কেননা, ইকবালের মোট কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১১টি। এগুলোর মধ্যে তিনটি উর্দু ভাষায় রচিত। আর বাকি আটটির ভাষা ফারসি। ইকবাল তার প্রথম জীবনে কবিতা লিখেছেন উর্দুতে। কিন্তু পরিণত জীবনে কবিতা লিখেছেন ভারসি ভাষায়। ইকবালের দু’টি কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেছে। একটি হলো, ‘আসরার-ই-খুদী’ (১৯১৫)…

যুদ্ধাপরাধের বিচার
|

যুদ্ধাপরাধের বিচার

যুদ্ধকে এখন একটা অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু যুদ্ধে যারা জেতে তাদের ভাবা হয় না যুদ্ধাপরাধী। যারা হেরে যায় কেবল তাদেরই বিচার হতে দেখা যায় যুদ্ধাপরাধী হিসেবে। আসলে যুদ্ধ করাটা অপরাধ নয়, অপরাধ হলো যুদ্ধে হেরে যাওয়াটা। অতীতে যখন এখনকার মতো কোনো আন্তর্জাতিক আইন ছিল না, যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে তখনো যুদ্ধে যারা হেরেছে তাদের হয়েছে…